গৃহস্থালি প্লাস্টিক পণ্য উৎপাদক ও রফতানিকারক প্রতিষ্ঠান আরএফএল গ্রুপ রফতানিবাজার সম্প্রসারণের লক্ষ্যে ২০০ কোটি টাকা বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে। এর মাধ্যমে গাজীপুরের কালীগঞ্জে আরএফএল ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কে নতুন কারখানা ও যন্ত্রপাতি স্থাপন করা হবে। শুধু রফতানিযোগ্য পণ্য উৎপাদনের লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠিত এ কারখানার
জন্য চীনের হাইতিয়ান গ্রুপের সঙ্গে আজ রাজধানীর একটি হোটেলে চুক্তি স্বাক্ষর করবে আরএফএল গ্রুপ।
এ উপলক্ষে গতকাল রাজধানীর প্রাণ-আরএফএল সেন্টারে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়। এ সময় প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের পরিচালক (বিপণন) কামরুজ্জামান কামাল বলেন, ‘দেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে কিছুটা ঝুঁকিপূর্ণ হলেও এ বিনিয়োগ আমাদের জন্য একটি মাইলফলক। নতুন যন্ত্রপাতি সংযোজনের ফলে কারখানাটি এপ্রিল-মে মাসের মধ্যে উৎপাদনে যাবে। বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় প্লাস্টিক মেশিনারি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান হাইতিয়ান গ্রুপ উন্নতমানের ইঞ্জেকশন মডেলিং মেশিন সরবরাহ, স্থাপন ও কমিশনিংয়ের কাজ করবে।’
তিনি জানান, এরই মধ্যে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ ইউরোপে গৃহস্থালি পণ্য রফতানি করছে। এবার উত্তর আমেরিকার বাজারে প্রবেশের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের এ পরিচালক বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার কারণে চীনের অনেক প্রতিষ্ঠান পণ্য রফতানি করতে পারছে না। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে আমরা মার্কেট ডেভেলপমেন্টে কাজ করছি। আরো কয়েকটি দেশের বাজার ধরার পরিকল্পনাও রয়েছে।’
শ্রমিক কল্যাণ ও কর্মসংস্থানের বিষয়ে কামরুজ্জামান কামাল বলেন, ‘বিনিয়োগের ক্ষেত্রে রফতানিমুখী ইউনিটে শতভাগ কমপ্লায়েন্স অনুসরণ করা হবে। কর্মীদের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং সুচিকিৎসা নিশ্চিত করা হবে। কারখানার বর্জ্য রিসাইক্লিং ব্যবস্থাপনায় পরিবেশবান্ধব ইটিপি স্থাপন করা হবে। এছাড়া নতুন কারখানার মাধ্যমে প্রায় ২ হাজার ৫০০ মানুষের কর্মসংস্থান হবে।’
সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় রফতানি বাণিজ্যের সম্ভাবনার বিষয় উল্লেখ করেন প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের জেনারেল ম্যানেজার (রফতানি) সালাউদ্দিন শিকদার। তিনি বলেন, ‘নতুন কারখানায় বার্ষিক ৪২ মিলিয়ন ডলারের সমপরিমাণ পণ্য উৎপাদন সম্ভব হবে। এর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের রফতানি আয় ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে। এরই মধ্যে নতুন কারখানাকে কেন্দ্র করে ৬ মিলিয়ন ডলারের ক্রয়াদেশ এসেছে, যা পোশাক খাতের বাইরে বেসরকারি খাতে অন্যতম বৃহৎ রফতানি আদেশ।"
তিনি জানান, নতুন কারখানায় বিভিন্ন ডিজাইনের গৃহস্থালি পণ্য উৎপাদন করা হবে, যার মধ্যে থাকবে কনটেইনার, টয়েজ (খেলনা সামগ্রী), টেবিলওয়্যার, কিচেনওয়্যার।
২০০৭ সালে ভারতে গৃহস্থালি প্লাস্টিক পণ্য রপ্তানির মাধ্যমে আরএফএল গ্রুপের রফতানি কার্যক্রম শুরু হয়। বর্তমানে বিশ্বের ৮০টি দেশে তাদের পণ্য পাওয়া যাচ্ছে এবং বছরে ২০ শতাংশ প্রবৃদ্ধির হারে রফতানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি ৩০টি ক্যাটাগরিতে ৫০০ ধরনের পণ্য রফতানি করছে।